বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার খরচ ক্রমশ বাড়ছে। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটের কারণে স্বপ্নের পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এই পরিস্থিতিতে দেশি স্কলারশিপগুলো এক আশার আলো। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে সরকারি, বেসরকারি ব্যাংক, এনজিও ও ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিভিন্ন স্কলারশিপ চালু রয়েছে যা দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফি, বৃত্তি, বই-খাতা সহায়তা প্রদান করে।
এই আর্টিকেলে আমরা বাংলাদেশের সেরা ১০টি দেশি স্কলারশিপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। প্রত্যেকটির যোগ্যতা, সুবিধা, আবেদন প্রক্রিয়া, ডেডলাইন (আনুমানিক ২০২৬-২৭ এর জন্য), এবং সফলতার টিপস অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তথ্যগুলো অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও সাম্প্রতিক নোটিশের ভিত্তিতে সংগৃহীত। সবসময় অফিসিয়াল সাইট চেক করুন কারণ ডেটা পরিবর্তন হতে পারে।
এই স্কলারশিপগুলো শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে উৎসাহিত করে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট (PMEAT) থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যাংকের প্রোগ্রাম — সবকিছু কভার করা হয়েছে। যদি আপনি HSC পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চান বা বর্তমানে পড়ছেন, তাহলে এই লিস্ট আপনার জন্য অমূল্য।
আর্টিকেলের শেষে আবেদনের সাধারণ টিপস, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস এবং FAQ থাকবে। চলুন বিস্তারিত জানি।
১. প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট (PMEAT) স্কলারশিপ ও উপবৃত্তি
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দেশি উদ্যোগ। এটি দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি, অ্যাডমিশন সহায়তা, PhD ফেলোশিপ প্রদান করে।
যোগ্যতা:
- অসচ্ছল পরিবার (বার্ষিক আয় ৩ লাখ টাকার নিচে)।
- SSC/HSC-এ ভালো রেজাল্ট (GPA ৩.৫০+ বা ৬০%+)।
- সেকেন্ডারি, হায়ার সেকেন্ডারি, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও উচ্চতর শিক্ষা স্তরের জন্য আলাদা ক্যাটাগরি।
সুবিধা: অ্যাডমিশন সহায়তা (৪,০০০-৮,০০০ টাকা), মাসিক উপবৃত্তি, টিউশন ফি সহায়তা। ২০২৬-২৭ এ PhD ফেলোশিপের জন্য আবেদন চলছে।
আবেদন প্রক্রিয়া: অনলাইন eservice.pmeat.gov.bd এ আবেদন। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট: জন্ম সনদ, NID, আয়ের সার্টিফিকেট, ইনস্টিটিউটের রেকমেন্ডেশন।
ডেডলাইন: সাধারণত মে-জুন মাস (২০২৬-২৭ এর জন্য চেক করুন)।
এই ট্রাস্ট হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে সাহায্য করেছে। উদাহরণস্বরূপ, গ্রামের একজন শিক্ষার্থী এর মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পেরেছে। বিস্তারিত নোটিশ pmeat.gov.bd এ পাওয়া যায়।
২. ডাচ-বাংলা ব্যাংক (DBBL) স্কলারশিপ
DBBL একটি জনপ্রিয় বেসরকারি উদ্যোগ। মেধাবী দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য HSC ও আন্ডারগ্র্যাজুয়েট লেভেলে স্কলারশিপ।
যোগ্যতা: SSC/HSC-এ GPA ৫.০০, আর্থিক প্রয়োজন।
সুবিধা: মাসিক বৃত্তি, বই-খাতা, টিউশন সাপোর্ট।
আবেদন: DBBL ওয়েবসাইট বা শাখায়। প্রতি বছর নোটিশ প্রকাশিত হয়।
এই স্কলারশিপ অনেককে ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেলে সফল করেছে।
৩. ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড / ফাউন্ডেশন স্কলারশিপ
ইসলামী ব্যাংক দরিদ্র মেধাবীদের জন্য SSC/HSC পরবর্তী স্কলারশিপ দেয়। RDS সদস্যদের সন্তানদের প্রাধান্য।
যোগ্যতা: ভালো রেজাল্ট, আর্থিক অসচ্ছলতা।
সুবিধা: বার্ষিক বৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ।
আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইন/অফলাইন।
৪. শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন স্কলারশিপ
HSC পাস অসচ্ছল মেধাবীদের জন্য ৩০০+ স্কলারশিপ। অনলাইন আবেদন scholarship.sjiblbd.com।
৫. গ্রামীণ ব্যাংক স্কলারশিপ প্রোগ্রাম
গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্যদের সন্তানদের জন্য প্রাইমারি থেকে HSC ও উচ্চশিক্ষা স্কলারশিপ। বছরে ২৭,০০০+ স্কলারশিপ।
৬. এক্সিম ব্যাংক ফাউন্ডেশন স্কলারশিপ
২০০৬ থেকে চলছে। দরিদ্র মেধাবীদের জন্য।
৭. বাংলাদেশ টেকনিক্যাল এডুকেশন বোর্ড (BTEB) স্কলারশিপ
ভোকেশনাল ও ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের জন্য। টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে পড়ুয়াদের জন্য।
৮. পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় মেরিট স্কলারশিপ (যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা ও সেমিস্টার রেজাল্টের ভিত্তিতে টিউশন ওয়েভার।
৯. HOPES ফাউন্ডেশন স্কলারশিপ
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স লেভেলে দরিদ্র মেধাবীদের জন্য।
১০. অন্যান্য উল্লেখযোগ্য (মন্ত্রণালয়, BRAC ইত্যাদি)
মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রোগ্রাম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ফেলোশিপ ইত্যাদি।
আবেদনের টিপস, ডকুমেন্টস ও FAQ
- সবসময় অফিসিয়াল সাইট চেক করুন।
- প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট: মার্কশিট, সার্টিফিকেট, আয়ের প্রমাণ, NID, ছবি, রেকমেন্ডেশন লেটার।
- টিপস: তাড়াতাড়ি আবেদন করুন, সঠিক তথ্য দিন, মোটিভেশনাল লেটার লিখুন।
- FAQ: কত টাকা পাওয়া যায়? রিনিউ করব কীভাবে? ইত্যাদি।
উপসংহার: এই স্কলারশিপগুলো ব্যবহার করে আপনার শিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করুন। শেয়ার করুন যাতে আরও শিক্ষার্থী উপকৃত হয়।

















